সর্বশেষ পোষ্টগুলো

শনিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৩

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার - ফরেক্স ( টিউটোরিয়াল ) - ১৩

ট্রেডিং স্টাইলঃ

এ অধ্যায় আমরা শিখব কিভাবে মূলত আপনি ভালো একটি ট্রেডিং সিস্টেমে ট্রেড করবেন, ফরেক্স মার্কেটে ট্রেডিং অনেক কঠিন আপনার জন্য যদি আপনার শক্তিশালী কোন ট্রেডিং ফর্মুলা বা ডিসিপ্লিন না থাকে, তাই স্ট্রেটিজি বা টেকনিক যতয় আপনি ভালো জানেন না কেন, একটি প্রপার ট্রেডিং সিস্টেম না জেনে ট্রেড করলে কখনো একজন সফল ট্রেডার হতে পারবেন না। মনে রাখবেন ফরেক্স থেকে আনলিমিটেড ইনকাম করা যায় এটা সত্যি কিন্তু আপনার কাছে যদি সঠিক রসায়ন না থাকে তাহলে এই কথা আপনার জন্য মিথ্যা। অনেক ট্রেডার আছে যারা কয়েকটি টেকনিক শিখে বা না শিখে অন্ধাকারে কয়েকটি ঢিল কারেক্ট করে আর মনে করে সে বুঝি ফরেক্স বুঝে গিয়েছে। কিন্তু একজন ভালো ট্রেডার কখনো এমন মন্ত্রে চলে না, একজন ভালো ট্রেডার শিখতে অনেক সময় নেয় এবং তার ফলাফল লাভ করে সারাজীবন। তাই আপনারদের বলছি, তারাহুড়া না করে আগে সব গুলো বিষয় একটু সময় নিয়ে ভালো ভাবে আয়ত্ত করুন তারপর দেখুন আপনি সবচেয়ে ভালো করছেন।
যাহোক কথা অনেক হল এখন আসি মূল আলোচনায়। আপনি কিভাবে বুঝবেন যে সিস্টেমে আপনি ট্রেড করছেন সেটি সঠিক ? নিচে কিছু পয়েন্ট দিলাম সেগুলোর সাথে আপনার ট্রেডিং
সিস্টেম মিলিয়ে নিন। এবং আপনার ট্রেডিং স্টাইলটি নির্বাচন করুন।

ফরেক্স টাইম ফ্রেম ট্রেডিং:

অনেক ট্রেডাররা ট্রেডিং টাইমফ্রেম না বুঝে ট্রেড করার কারনে ট্রেডে লস করে। নতুন ট্রেডাররা অনেক বেশি উত্তেজিত হয়ে কম সময়ে লাভ করতে গিয়ে ভুল টাইম ফ্রেমে ট্রেড করে যা তাদের ট্রেডিং স্টেটিজির সাথে সামঞ্জস্য নয়। এবং শেষে বিপল হয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলে। কারন ভিন্ন ভিন্ন টাইমফ্রেমে মার্কেট চার্ট ভিন্ন ভিন্ন ট্রেন্ড নির্দেশ করে, যেমন আপনি যদি ৫ মিনিটের চার্ট দেখেন হয়ত মার্কেট তখন আপ ট্রেন্ড নির্দেশ করছে আবার একই চার্ট যদি ১ ঘন্টার ফ্রেমে দেখেন তখন হয়ত এভারেজ ট্রেন্ড সেল ও হতে পারে, তাই অর্ডার এর পূর্বে আপনাকে অবশ্যই আপনার সাথে সামঞ্জস্য টাইমফ্রেমে ট্রেডে ঢুকতে হবে। তবে ফরেক্স মার্কেটে নিশ্চিতভাবে সময় কখনও মেলাতে পারবেন না। আপনাকে টাইম সিলেক্ট করতে হবে আপনার স্ট্রেটিজি এবং টার্গেট এর উপর ভিত্তি করে। মোটামুটি ৩ ধরণের টাইমফ্রেমে আপনার টার্গেট সেট করতে পারেন।
ইনট্রাডে টাইমফ্রেম – ১-১৫ মিনিট
শর্ট টাইমফ্রেম - ১-৪ ঘন্টা
লং টাইমফ্রেম – ১ দিন বা তার বেশি
১। শর্ট টাইম ট্রেডিং: এই পদ্ধতিতে আপনি দু’ধরনের ট্রেড করতে পারেন
• স্কেলপিং
• ডে-ট্রেডিং
২। লং টাইম ট্রেডিং: এই পদ্ধতিতেও আপনি দু’ধরনের ট্রেড করতে পারেন
• সুয়িং ট্রেডিং
• পজিশন ট্রেডিং




শর্ট টাইম ট্রেডিং- স্কেলপিং:

এই ধরণের ট্রেডিং এ খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে আপনাকে ট্রেডে ঢুকতে হবে এবং ট্রেড থেকে বের হতে হবে যা কয়েক সেকেন্ডও হতে পারে। যেহেতু খুব স্বল্প সময়ের ট্রেড তাই আপনাকে প্রচুর ট্রেড করতে হবে যার পরিমান দৈনিক ১০০ হতে পারে। প্রতি ট্রেডে খুব সিমিত প্রফিট করবেন যেমন ৩-৫ পিপস। ১ মিনিটের চার্টের উপর ভিত্তি করে একটি গতিশীল মার্কেট ট্রেন্ডে এই ট্রেড করবেন।

স্কেলপিং ট্রেডের সুবিধাঃ
• সামান্য রিস্কে ট্রেড ।
• হাই সিস্টেম একুরিসি।
• ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসের প্রয়োজন নাই।
• হঠাত মার্কেটে পরিবর্তনেও রিস্ক থাকে না।
• প্রতিদিন অনেক বার এই সুবিধা পাওয়া যায়।

স্কেলপিং ট্রেডের অসুবিধাঃ
• এই ট্রেডে প্রচুন্ড মানসিক অস্থিরতা কাজ করবে
• ফাস্ট অর্ডার এক্সিকিউশন ব্রোকার হতে হবে।
• ট্রান্সজেশন কস্ট অনেক বেশি দিতে হবে। (যদি দৈনিক ২০টা ট্রেড করেন ৬০পিপস স্প্রেড দিতে হবে)।

শর্ট টাইম ডে-ট্রেডিং:
এই ধরণের ট্রেড কয়েক মিনিট থেকে শুরু করে সারাদিন ব্যাপী হতে পারে। ট্রেডারদের এই সকল ট্রেডে ঢুকতে খুবই ডিসিপ্লিন এবং ধরজের সাথে মার্কেট ট্রেন্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ট্রেডাররা টেকনিক্যাল স্ট্রেটিজি ফলো করেন। এই সিস্টেমে দৈনিক ট্রেডের সংখ্যা ১-৫টিহয়। ডে-ট্রেডিং ট্রেডের জন্য ৫-৩০ মিনিটের চার্টে ট্রেড করা উত্তম।

ডে-ট্রেডের সুবিধাঃ
• অতি মাত্রায় ইনকাম করা যায়।
• স্বল্পমেয়াদী ট্রেন্ডে ট্রেড করতে পারা যায়।
• মার্কেটে পরিবর্তনেও রিস্ক থাকে না।
• সব সময় বিকল্প একটি পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়।

ডে-ট্রেডের অসুবিধাঃ
• একটি সঠিক নিয়ম তান্ত্রিক পদ্ধতিতে ট্রেড করতে হয়।
• ট্রেডিং আউটপুট পেতে অতিমাত্রায় দরঝ লাগে।
• ভিন্ন ভিন্ন মার্কেটে ভিন্ন ভিন্ন স্ট্রেটিজি এপ্লাই করতে হয়।
• প্রতিনিয়ত মার্কেট নিউজ আর সাথে আপডেট থাকতে হয়।

লং টাইম - সুয়িং ট্রেডিং:

এই প্রকার ট্রেডিং এর মেয়াদ ৩-৫ দিন আর মত হয়। মিডিয়াম টার্ম ট্রেন্ডে এই ট্রেড করার সুবিধা পাওয়া যায় এবং জেকোন সময়ে ট্রেডে ডোকা যায়। দিনে কয়েকবার ট্রেড মনিটর করতে হয় এবং ১-৪ ঘন্টার চার্টে এই ট্রেড করতে হয়। এই ট্রেডের জন্য স্ট্রেটিজি হিসেবে টেকনিক্যাল এনালাইসিসের ডাবল টপ/বটম , ট্রাইয়াঙ্গেল চার্ট প্যাটার্ন বেশি ব্যাবহার হয়।
 
সুয়িং ট্রেডের সুবিধাঃ
• এক ট্রেডে অনেক আয় আর সম্ভাবনা থাকে।
• ডে-ট্রেডিং আর চেয়ে এই ট্রেডে রিটার্ন বেশি থাকে।
• ট্রেডারদের লম্বা সময় তাল থাকে বলে মার্কেট ফলিং এ অস্থিরতা থাকে না।
• ট্রানসেশন কস্ট কম।
• মানসিক চাপ কম থাকে।

সুয়িং ট্রেডের অসুবিধাঃ
• লো ইনভেস্টমেন্ট করা যায় না।
• দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হায় রিটার্ন আর জন্য।
• এই ধরণের ট্রেডিং সিস্টেম একুরিসি ভাল নয়।
• সেশন ব্রেকে রিস্ক থাকে।

পজিশন ট্রেডিং:

এটি হচ্ছে ফরেক্স মার্কেটের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদী ট্রেডিং যা কয়েকদিন থেকে শুরু করে কয়েক মাস পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ট্রেডারদের সব সময় লং টাইম ফোরকাস্ট আর উপর ট্রেড করতে হয়। ৪ ঘন্টা – ডে-চার্ট এর উপর ভিত্তি করে এই ট্রেডে অর্ডার করতে হয়। এই ট্রেডে ডেইলি ২-১ বার মনিটরিং করলে চলে। দীর্ঘ সময়ের পিভট পয়েন্ট ব্রেকে এই ট্রেড করা যায়।

পজিশন ট্রেডের সুবিধাঃ
• ৫০০ পিপস এর বেশি রিটার্ন পাওয়া যায় ।
• মার্কেট নেগেটিভ মুভে ট্রেডার অস্থিরতা থাকে না।
• ট্রানসেশন কস্ট কম।
• মানসিক চাপ কম থাকে।

পজিশন ট্রেডের অসুবিধাঃ
• লো ইনভেস্টমেন্ট করা যায় না।
• দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হায় রিটার্ন আর জন্য।
• এই ধরণের ট্রেডিং সিস্টেম একুরিসি ৫০%।
• সেশন ব্রেকে রিস্ক থাকে।

কোন স্টাইলে ট্রেড করবেনঃ

প্রত্যেক ট্রেডার এর একটি স্বাধীন চেতনা, ট্রেডিং স্ট্রেটিজি , উদ্দেশ্য এবং সময় এর অভিরুচি থাকে, তাই কে কোন স্টাইলে ট্রেড করবেন তা একান্তই নির্ভর করছে আপনার টার্গেট এবং চাওয়ার উপর। যেমন, যেমন আপনি যদি একজন চাকুরীজীবী হউন তাহলে আপনার জন্য সুয়িং বা ডে-ট্রেডিং উত্তম হতে পারে। অথবা আপনি যদি প্রতিনিয়ত চার্টে চোখ রাখতে পারেন তাহলে স্কেল্পিং ভালো হতে পারে।
কিংবা আপনি যদি ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসে ট্রেড করতে চান তাহলে আপনার জন্য লং টাইম বা পজিশন ট্রেড ভালো হতে পারে। তাই আপনার চাহিদা কি এবং কি ধরনের সময় ব্যায় করতে পারবেন ট্রেডিং এর জন্য সব হিসাব কষে তারপর সিদ্ধান্ত নিন কোন ট্রেডিং স্টাইলে আপনি ট্রেড শুরু করবেন। তবে সিদ্ধান্ত আপনার যা-ই হোক না কেন রিয়েল ট্রেডে যাওয়ার আগে অবশ্যই ডেমোতে আপনার স্টাইল পারফেক্ট প্রুভ করে নিবেন।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার - ফরেক্স ( টিউটোরিয়াল ) - ১২

বলিঙ্গার বেন্ড (Bollinger Band):

এটি ও টেকনিক্যাল এনালাইসিসের  জনপ্রিয় একটি ট্রেডিং টুল। এই টুলটির মূল উদ্দেশ্য হল মার্কেট হাই এবং লো প্রাইস এর একটি তুলনামুলক পরিধি পরিমাপ করা। যা তিনটি বক্ররেখা (Curve)এর মাধ্যমে অঙ্কিত। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট ডিবিয়েশন পরিমাপের মাধ্যমে তিনটি বক্ররেখা দিয়ে অঙ্গিত একটি সিকিউর প্রাইস বাউন্ডারি।


চিত্রে লক্ষ্য করুন...

মাঝখানের রেখাটিকে মিডল বলিঙ্গার বলা হয় যা সোজাসুজি সিম্পল মুভিং এভারেজ এর কাজ করে থাকে এবং ডিফল্ট ২০-ডে পিরিয়ডে সেট থাকে আপনি চাইলে কাস্টোমাইজ করতে পারেন। দুটি স্ট্যান্ডার্ড ডিবিয়েশনে উপরের রেখাটিকে আপার বলিঙ্গার বলা হয় এবং নিচের রেখাটিকে লাওয়ার বলিঙ্গার বলা হয়। মার্কেট volatility যখন বাড়ে তখন Bands গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চওড়া হতে থাকে  আবার যখন volatility কমে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে Bands গুলো সঙ্কুচিত হতে থাকে। বলিঙ্গার বেন্ড ট্রেডিং এ সাধারণত দুধরনের ফরমেশন দেখা যায়। বলিঙ্গার বেন্ড বাউন্স এবং স্কুয়িজ।

 বলিঙ্গার বেন্ড বাউন্সঃ

মার্কেট প্রাইস আপার বা লাওয়ার যে লাইনেই থাকুক না কেনো তা যখন ফিরে এসে  মিডল বলিঙ্গারকে টাচ করে তাকেই বলিঙ্গার বাউন্স বলে। ঠিক এভাবে আপার বা লাওয়ার বলিঙ্গার এর মাধ্যমে পাইস যখন বার বার মিডল বলিঙ্গারকে টাচ করে তখন ছোট ছোট কিছু সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স তৈরি হয় আর এই সকল মিনি সাপোর্ট এন্ড রেসিস্টেনসকে ডায়নামিক সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স বলা হয়। বলিঙ্গার বেন্ড বাউনস এর মাধ্যমে আপনি সহজে রেঞ্জবাউন্ড ট্রেডিং করতে পারেন ।


উপরের চিত্রে দেখুন... প্রাইস আপ বলিঙ্গার থেকে মিডল বলিঙ্গার আবার মিডল বলিঙ্গার থেকে আপ বলিঙ্গার আর মাধ্যমে বাউন্স করে করছে।


বলিঙ্গার বেন্ড স্কুয়িজঃ

হল এই ইন্ডিকেটরের আরেকটি রেগুলার আকৃতি যা মার্কেটের অবস্থাসংকট মুহূর্ত নির্দেশ করে। যখন দেখবেন আপার এবং লাওয়ার বলিঙ্গার লাইন দুটি একসঙ্গে ক্লোজ হয় তখনই এই অবস্থার সূচনা হয়। আর এই ধরণের পজিশন এর পরে মার্কেট যে কোন একটি ডিরেকশনে ব্রেকআউট করে, এবং অনেক লম্বা একটি মুভিং এর পরে প্রাইস আবার ব্যাক করে। বেশিরভাগ ট্রেডাররা এই সুযোগটির অপেক্ষায় থাকে। সাধারণত ক্যান্ডেল যখন আপার বেন্ড হয়ে স্কুয়িজ থেকে বের হয় তখন  পরবর্তী মার্কেট ট্রেন্ড আপ হয় এবং ক্যান্ডেল যখন লাওয়ার বেন্ড হয়ে স্কুয়িজ থেকে বের হয় তখন  পরবর্তী মার্কেট ট্রেন্ড ডাউন হয়।

উপরের চিত্রে দেখা যাচ্ছে আপার এবং লাওয়ার প্রাইস একসঙ্গে ক্লোজ হওয়ার কারণে দুটি বেড একই অবস্থায় অনেকক্ষণ মুভ আর পরে আপার বেন্ডের মাধ্যমে বায় ব্রেক আউট হল।

 বিশেষ নোটঃ
প্রাইস যখন বলিঙ্গার বেন্ড লাইন এর বাইরে ক্লোজ হয় তখন মার্কেট আরো কন্টিনিউশন বোঝায়।

R.S.I –Relative Strength Index:

এটি একটি মোমেন্টাম ইন্ডিকেটর যা মার্কেটের প্রাইস ওভারবট এবং ওভারসল্ড অবস্থা বোঝায় এবং নির্দিষ্ট একটি সময়ের এভারেজ বায় এবং সেল এর সীমানা নির্দেশ করা পূর্বক ট্রেডিং এ সহায়তা করে থাকে।  এই ইন্ডিকেটরটি 0 থেকে 100 রেঞ্জের মধ্যে এক একটি স্কেলে মার্কেটের এক একটি অবস্থার নির্দেশনা প্রদান করে থাকে।
স্কেল লেভেল অনুসারে সিগনালঃ
  • ৫০ স্কেল লেভেলের উপরে         – মার্কেট আপট্রেন্ডে আছে বলে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
  • ৫০ স্কেল লেভেলের নিচে           – মার্কেট ডাউনট্রেন্ডে আছে বলে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
  • ৭০ স্কেল লেভেলের শীর্ষে                   - মার্কেটে অতিরক্ত বায় হয়েছে।
  • ৩০ স্কেল লেভেলের নিম্নে           - মার্কেটে অতিরক্ত সেল হয়েছে।
 

বায় ট্রেডঃ যখন RSI ওভারসল্ড লাইন ৩০ লেভেলের উপরের দিকে আড়াআড়ি (Cross) কেটে যাবে তখন বায় অর্ডার করতে পারেন।

সেল ট্রেডঃ যখন RSI ওভারবট লাইন ৭০ লেভেলের নিচের দিকে আড়াআড়ি (Cross) কেটে যাবে তখন সেল অর্ডার করতে পারেন।

RSI দিয়ে কিভাবে ট্রেড ক্লোজ করবেনঃ RSI যেমন খুব ভালো একটি ইন্ডিকেটর ট্রেডে এন্টার করার জন্য আবার তেমনি ভালো একটি ইন্ডিকেটর ও ট্রেড থেকে বের হওয়ার জন্য। অর্থাৎ এই ইন্ডিকেটরটি আপনাকে ট্রেডে ঢুকতে এবং বের হওয়ার সিগনাল দিবে। লক্ষ্য করবেন প্রাইস মুভমেন্টের উপর RSI প্রতিনিয়ত উপডেট হয় অর্থাৎ প্রাইস্ ট্রেন্ড আপ হলে RSI লাইন আপ ইন্ডিকেট করে আবার ডাউনট্রেন্ড হলে ডাউন ইন্ডিকেট করে, আপনি যখন বায় ট্রেড করবেন তখন আপনার লক্ষ্য থাকবে যে RSI ৭০ লেভেল ক্রস বা টাচ করেছে কি না সেই ক্ষেত্রে বেশি লাভের আশায় না থেকে ট্রেডটি ক্লোজ করে দিতে পারেন আবার যখন সেল ট্রেড করবেন তখন লক্ষ্য রাখবেন RSI ৩০ লেভেল টাচ করছে কি না সেই খেত্রেও আর বেশি লাভের রিস্ক না নিয়ে সেল ট্রেডটি ক্লোজ করে দিতে পারেন।
বাউন্স ট্রেডিং আর ক্ষেত্রে ট্রেড ক্লোজ করতে ৭০ বা ৩০ লেভেল পর্যন্ত অপেক্ষা করলে নেগেটিভ সুফল আসতে পারে সেই ক্ষেত্রে ৫০ লেভেলে ট্রেড ক্লোজ করে দিবেন।  অর্থাৎ আপনার বায় ট্রেড হবে ৩০ লেভেল থেকে ৫০ লেভেল এবং সেল ট্রেড হবে ৭০ লেভেল থেকে ৫০ লেভেল।
এছাড়া RSI দিয়ে Divergence এবং Swing ট্রেড সহ অনেক স্ট্রেটিজিকেল ট্রেড করা যায় যা আমরা পরবর্তী এডভান্সড লেসনে সিখব।

ADX-Average Directional Index:

এই ইন্ডিকেটর দিয়ে একটি ট্রেন্ডের Strength (শক্তি) নির্ধারণ করতে পারবেন যে ট্রেন্ডটি কত শক্তিশালী বা কত দুর্বল। এই ক্ষেত্রে হাই রিডিং (High Reading) ট্রেন্ড একটি শক্তিশালী এবং লো রিডিং (Low Reading) ট্রেন্ড একটি দুর্বল ট্রেন্ডের ইঙ্গিত করে। এই ইন্ডিকেটরটি একটি এভারেজ ডিরেকশনাল লাইন সহ একটি প্লাস (+) ডিরেকশন এবং একটি মাইনাস (-) ডিরেকশন লাইনে তিনটি লেভেলের মাধ্যমে ট্রেডিং সিগনাল প্রদান করে।

 লাইন পরিচিতিঃ
ADX লাইন = Generally White
+DI লাইন = Green
-DI  লাইন = Red

 লেভেল অনুসারে ADX ট্রেডিং সিগনালঃ
ü  ADX লাইন ০-২৫ লেভেলের নিচে অবস্থান করলে  – বর্তমান ট্রেন্ডটি খুবই দুর্বল বা ট্রেন্ড নাই।
ü  ADX লাইন ২৫-৫০ লেভেলের মধ্যে মুভ করলে    -  বর্তমান ট্রেন্ডটি শক্তিশালী।
ü  ADX লাইন ৫০-৭৫ লেভেলের মধ্যে মুভ করলে – ট্রেন্ড খুব শক্তিশালী।
ü  ADX লাইন ৭৫-১০০ লেভেলের মধ্যে মুভ করলে  – ট্রেন্ড সর্বোচ্চপরিমাণে।
ü  +DI লাইন যদি –DI লাইন এর উপরে থাকে – আপট্রেন্ড পজিশন।
ü  -DI লাইন যদি +DI লাইন এর উপরে থাকে - ডাউনট্রেন্ড পজিশন।
আর যখন দুটি DI লাইন ক্রসিং হয় তখন ট্রেন্ড চেঞ্জ হচ্চে বুঝতে হবে এবং তারপরেই নিশ্চিত হতে পারবেন যে পরবর্তী ট্রেন্ডটি কি হবে।



উপরের চিত্রমতে, -DI লাইন +DI লাইনকে ক্রস করে উপরে উঠছে যা ডাউনট্রেন্ড সিগনাল দিচ্ছে কিন্তু  অন্যদিকে ADX লাইন ২০ লেভেলের নিচে চলে যাচ্ছে অর্থাৎ ট্রেন্ড সেল হলেও তা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, তাই এই অবস্থায় ট্রেড না করে ADX ভেলু ২০ লেভেলের উপরে উঠার জন্য অপেক্ষা করুন।


 কখন ট্রেড করবেনঃ ADX -/+ লাইনের স্থান নির্ণয় এর মাধ্যমেই আপনাকে ট্রেডে ঢুকতে হবে। যখন ADX লাইন ২৫ লেভেল ক্রস করে এবং +DI লাইন –DI লাইন এর উপরে থাকে তখন বায় ট্রেড করবেন। বিপরীতভাবে ADX লাইন ২৫ লেভেল ক্রস করলে –DI লাইন যখন +DI লাইন এর উপরে থাকবে তখন সেল ট্রেড করবেন।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার - ফরেক্স ( টিউটোরিয়াল ) - ১১

ইন্ডিকেটর কিঃ
সহজ কথায় ইন্ডিকেটর হল প্রাইস অ্যাকশন এর একটি চিত্রভিত্তিক নির্দেশনা। অর্থাৎ বর্তমান পাইস থেকে পরবর্তী পাইস ডাউন করবে কি আপ এ যাবে এই ধরণের নির্দেশনা ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে পাওয়া যায়। টেকনিক্যাল এনালাইসিসে ইন্ডিকেটর অনেক জনপ্রিয় একটি সিস্টেম যা প্রায় সকল ট্রেডারকে ব্যাবহার করতে দেখা যায়।
ইন্ডিকেটর হল প্রোগ্রামিং কোডের সমন্বয়ে কিছু লজিক নিয়ে গঠিত একটি ডিরেকশন পদ্ধতি তাই যদি কখনো মার্কেট ট্রেন্ড ওই পদ্ধতির বাইরে রেয়াক্ট করে তখন আর ঐ ইন্ডিকেটরের সুফল পাওয়া যায় না, তবে কিছু শক্তিশালী ইন্ডিকেটর আছে যেগুলো আপনার ট্রেডিংকে অনেক সহজ এবং রিলাইএবল করে। ভিন্ন রকম ইন্ডিকেটর ভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। তবে টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর জন্য ইন্ডিকেটর একটি বড় এবং মৌলিক হাতিয়ার। মোটামুটি সব ট্রেডাররাই ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে ট্রেড করতে পছন্দ করে।

ফরেক্স মার্কেটরে ডিফল্ট(ফ্রী) সহ অনেক কমার্শিয়াল ইন্ডিকেটর পাওয়া যায়। কখনো পুরোপুরি ইন্ডিকেটর নির্ভর হয়ে ট্রেড করবেন না। ইন্ডিকেটর কে ব্যাবহার করবেন ট্রেড বা অর্ডারের পারফেকশন বাড়াতে অর্থাৎ আপনি যে সব স্ট্রেটিজি জানেন সেই অনুসারে অর্ডার করতে ইন্ডিকেটর আপনাকে সাহায্য করবে এবং আপনার ডেসিশন মেকিং এ হেলপিং হেন্ড হিসেবে কাজ করবে। যে ইনডিকেটরই ব্যাবহার করবেন প্রথমে অবশ্যই তার বিহেবিয়ার বুঝে ভালোভাবে ডেমোতে প্র্যাকটিস করে ইন্ডিকেটর এর সাকসেস রেইট বুঝে তারপর লাইভ মার্কেটে এপ্লাই করবেন। যেহেতু ইন্ডিকেটর টেকনিক্যাল এনালাইসিস বেস একটি ইন্সট্রুমেন্ট তাই ফান্ডামেন্টাল নিউজ এর কারনে ইন্ডিকেটর কখনো তার স্বাভাবিক নির্দেশনার ব্যাতিক্রম করতে পারে। তাই সাবধান থাকুন। কিছু কমন এবং ভালো ফলাফল প্রদান করে এমন ইন্ডিকেটর শিখে ট্রেড করুন।

যেহেতু ফরেক্স মার্কেটে আমাদের সব শিক্ষার ফাইনাল টার্গেট হল ট্রেডে এন্টার করে এবং সফলভাবে ট্রেড থেকে বের হওয়া তাই আমরা কিছু ইন্ডিকেটর ব্যাবহার ট্রেড ওপেন করতে আর কিছু ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করব ট্রেড ক্লোজ ডিসিশন নিতে।

আমাদের অনেক ট্রেডারের বড় একটি সমস্যা হল এলোমেলো ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করে নিজেই মিসগাইড হয়ে যাওয়া। তাই আপনার স্ট্রেটিজি অনুসারে ট্রেড ওপেন আর জন্য ২-৩টি ইন্ডিকেটর আর ট্রেড ক্লোজ আর জন্য ২টি ইন্ডিকেটর দিয়ে নিজেই একটি সেট বা ইন্ডিকেটর প্যাকেজ তৈরি করুন। এতে করে আপনার ট্রেডিং মেসগাইড হবে না এবং শৃঙ্খলতার সাথে ট্রেড করতে পারবেন। অনেক গুলো ইন্ডিকেটর একসাথে ব্যাবহার করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই আমি এখানে মুলত একটি ট্রেডিং ইন্ডিকেটর প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করবো আশা করছি পরবর্তীতে আপনি ও নিজে একটি সেট করে ভালো ট্রেড করবেন


ট্রেড ওপেন করার জন্যঃ
  • মুভিং এভারেজ (Moving Average)
  • বলিঙ্গার বেন্ড (Bollinger Band)
  • জিগজাগ (Zigzag)

ট্রেড ক্লোজ করার জন্যঃ
  • আর.এস.আই-RSI (Relative Strength Index)
  • এ.ডি.এক্স- ADX(Average Directional Moving Index)

মুভিং এভারেজঃ

একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিধিতে মার্কেটের এভারেজ পাইস ভেলু কি ছিল তা বোঝার জন্য মুভিং এভারেজ খুবই জনপ্রিয় এবং সচরাচর বেবহারিত একটি টুল। মুভিং এভারেজ  সাধারনভাবে সম্ভব্য সাপোর্ট এবং রেসিসটেনস এর এরিয়া এবং গতি পরিমাপক একটি টুল হিসেবে বেবহরিত হয় । এই টুলটিকে রলিং (Rolling) বা রানিং (Running) এভারেজ টুল ও বলা হয়ে থাকে এবং এই মুভিং আভারেজকে টেকনিক্যাল এনালাইসিসের প্রাণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। নভিস থেকে শুরু করে প্রফেশনাল ট্রেডার সবাই মুভিং আভারেজ টুলটি ব্যাবহার করে। ফরেক্স মার্কেটে মোটামুটি ২ ধরণের মুভিং এভারেজ ট্রেডাররা বেশি ব্যাবহার করে থাকে।
১। SMA – সিম্পল মুভিং এভারেজ(Simple Moving Average)
২। EMA – এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ(Exponential Moving Average)


সিম্পল মুভিং এভারেজ(Simple Moving Average):

এই ইন্ডিকেটরটি দিয়ে পিরিয়ড এবং প্রাইস এর ভিত্তিতে একটি গাণিতিক হিসাব এর মাধ্যমে আপনি ট্রেন্ড ডিরেকশন সহ  বায় এবং সেল সংকেত বা সিগনাল দিতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে আপনি কত দীর্ঘ মেয়াদী বা স্বল্প মেয়াদী ট্রেড করবেন  তা নির্ভর করবে আপনি কত সময়ের মুভিং এভারেজ পছন্দ করছেন।  তবে অভিজ্ঞ ট্রেডাররা ৩টি সময়ের মুভিং এভারেজ এর উপর ট্রেড করে থাকে।  সেগুলো হলঃ
  • স্বল্পমেয়াদী (Short term) – ১০ দিনের মুভিং এভারেজ
  • মধ্য মেয়াদী (Intermediate Term)  – ৫০ দিনের মুভিং এভারেজ
  • দীর্ঘ মেয়াদী (Long Term) – ২০০ দিনের মুভিং এভারেজ


 



কিভাবে মুভিং এভারেজ বের করবেনঃ

 SMA  =  Adding the closing price of a number of time periods / number of periods
উদহারন ১#  ৫ দিনের মার্কেট ক্লোজিং প্রাইস যথাক্রমে ১.২১৬৬, ১.২৩৪১, ১.২৩৯৮, ১.২৩৬৪, ১.২৩০৫ এর যোগফলকে ঐ সময় পিরিয়ড দিয়ে ভাগ ;
১.২১৬৬ + ১.২৩৪১ + ১.২৩৯৮+ ১.২৩৬৪,+ ১.২৩০৫ / ৫ = ১.২৩১৪

উদহারন ২# ১০ ঘন্টার মার্কেট ক্লোজিং প্রাইস যথাক্রমে  ১.২২৮১, ১.২২৭৬, ১.২২৭১, ১.২২৬৫, ১.২২৭১, ১.২২৬১, ১.২৩১৩, ১.২২৯৬, ১.২২৯৩, ১.২২৯৫ এর যোগফলকে ঐ সময় পিরিয়ড দিয়ে ভাগ;

১.২২৮১, ১.২২৭৬, ১.২২৭১, ১.২২৬৫, ১.২২৭১, ১.২২৬১, ১.২৩১৩, ১.২২৯৬, ১.২২৯৩, ১.২২৯৫ / ১০ = ১.২২৮২

কিভাবে ট্রেড করবেনঃ  মুভিং এভারেজ প্রাইস যদি বর্তমান মার্কেট প্রাইস এর উপরে হয় তাহলে বায় ট্রেড করবেন। এবং পাইস যদি বর্তমান মার্কেট প্রাইস এর নিচে হয় তাহলে সেল ট্রেড করবেন।

এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ(Exponential Moving Average):

সিম্পল মুভিং এভারেজ এর মত এই প্রকার মুভিং এভারেজ ও মার্কেট ডিরেকশন দেয় তবে পার্থক্য এটাই যে এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজে তুলনামুলক পূর্ব পিরিয়ড প্রাইস থেকে সবচেয়ে রিসেন্ট পিরিয়ড প্রাইস কে অধিক গুরুত্তের সাথে দেখা হয় । বিষয়টি আরো পরিষ্কার করছি...... মনে করুন, আপনি ৫ দিনের সিম্পল মুভিং এভারেজ বের করবেন,
প্রথম দিন ক্লোজিং প্রাইস - ১.২১৬৬,
দ্বিতীয় দিন ক্লোজিং প্রাইস - ১.২৩৪১,
তৃতীয় দিন ক্লোজিং প্রাইস - ১.২৩৯৮,
চতুর্থ দিন ক্লোজিং প্রাইস - ১.২৩৬৪,
পঞ্চম দিন ক্লোজিং প্রাইস - ১.২৩০৫
তাহলে ৫ দিনের ক্লোজিং প্রাইস কে ৫ দিয়ে ভাগ করলে সিম্পল মুভিং এভারেজ বের হবে যা আমরা পূর্বে শিখেছি। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করুন যে ১ম দিনের ক্লোজিং প্রাইস এর সাথে ২য় দিনের ক্লোজিং প্রাইস এর একটা বড় ডিস্টেন্স দেখা যাচ্ছে যা পরবর্তী ৩দিনের এভারেজ ক্লোজিং প্রাইস থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থাৎ স্বাভাবিক নয়। কারন ঐ দিন (২য় দিন) ভালো ইকোনমিক নিউজ এর কারনে প্রাইস অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যা সাধারণ টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মধ্যে পড়ে না। সিম্পল মুভিং এভারেজে  নির্দিষ্ট কোন দিনকে অধিক কোন গুরুত্ব দেওয়া হয় নি। আর এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজের পার্থক্যটা এখানেই। এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজে প্রথম দুদিনের প্রাইস থেকে সবচেয়ে রিসেন্ট অর্থাৎ লাস্ট ৩দিনের প্রাইসকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মুভিং এভারেজ বের করা হয়।  

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার - ফরেক্স ( টিউটোরিয়াল ) - ১০

রিভার্সেল চার্ট প্যাটার্ন:

যে সকল চার্ট প্যাটার্নে মার্কেট বিপরীত দিকে মোড় নেয় অর্থাৎ ট্রেন্ড চেঞ্জ করে সেসকল প্যাটার্নকে রিভার্সেল চার্ট প্যাটার্ন বলে। কয়েকটি কমন রিভার্সেল চার্ট প্যাটার্ন হলঃ

ডাবল টপঃ

এটি ফরেক্স মার্কেটের বহুল জনপ্রিয় একটি প্যাটার্ন যা প্রায় সময় দেখা যায়। এটি খুব কমন এবং রিলায়এবল একটি ট্রেন্ড রিভার্স প্যাটার্ন যা খুব সহজে চিহ্নিত করা যায়। এই প্রকার প্যাটার্নটি ইংরেজি M সেইপ এর সাথে তুলনা করে ট্রেন্ড নিশ্চিত করতে পারা যায়। অর্থাৎ যখন আপট্রেন্ড মার্কেটে পাইস বাউনসিং এর মাধ্যমে মুভ করে একটি রেসিসটেনস লেভেল কে আরেকটি সাপোর্ট (নেক) লেভেল এর মাধ্যমে পুল ব্যাক করে দ্বিতীয় বার ওই রেসিসটেনস লেভেল কে সমানভাবে বা মোটামুটি সমান ভাবে হিট করে তখন ডাবল টপ শেইপ তৈরি হয়।
নিচের ছবিটি দেখুন...।




কিভাবে ট্রেড করবেনঃ ডাবল টপ পিক করে পাইস যখন কমে গিয়ে নেক (Neckline) লেভেলকে ক্রস করে তখন সেল অর্ডার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন নেক লেভেলকে ক্রস না করলে কিন্তু বটম বাউন্স করে উপরে উঠে যেতে পারে।

 ডাবল বটমঃ

প্যাটার্ন হল ডাবল টপ প্যাটার্ন এর বিপরীত একটি রিভার্সেল প্যাটার্ন। লম্বা বা বিস্তৃত ডাউন ট্রেন্ডে এটি সাদৃশ্য হয়। এটিকে ইংরেজি W শেইপ এর মত তুলনা করতে পারেন। যখন ডাউনট্রেন্ড মার্কেটে পাইস বাউনসিং এর মাধ্যমে মুভ করে একটি সাপোর্ট লেভেল কে আরেকটি রেসিসটেনস (নেক) লেভেল এর মাধ্যমে পুল ব্যাক করে দ্বিতীয় বার ওই সাপোর্ট লেভেল কে সমানভাবে বা মোটামুটি সমান ভাবে হিট করে তখন ডাবল বটম শেইপ তৈরি হয়।
নিচের চিত্রে দেখুন...






কিভাবে ট্রেড করবেনঃ ডাবল বটম পয়েন্ট টাচ করে পাইস যখন বেড়ে গিয়ে নেক (Neckline) লেভেলকে ক্রস করে তখন বায় অর্ডার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন নেক লেভেলকে ক্রস না করলে বাউন্স করে আবার নিচে নেমে যেতে পারে।

 ট্রিপল টপ (Triple Top) :

টপ মত পার্থক্য হল তৃতীয় বারের মত রেসিসটেনস লেভেল কে পিক করলে এই শেইপ তৈরি হয়।
 চিত্রে দেখুন...






একইভাবে তৃতীয় বারের মত সাপোর্ট লেভেল টাচ করে ক্রস করলে সেল অর্ডার করতে পারেন। এই সকল প্যাটার্নে ট্রেড করতে পারলে ১০০ পিপস এর বেশি প্রফিট বের করা যায়।

 ট্রিপল বটম (Triple বটম):

ডাবল এবং ট্রিপল বটম প্যাটার্ন  বুঝতে পারলে এই প্যাটার্নে আর বিস্তারিত কিছু বলার নাই আশা করি এতক্ষণে আপনি বুঝে গিয়েছেন। ডাবল বটম প্যাটার্নের আর একটু বিস্তৃত অর্থাৎ পরপর তিনটি সমান বা কাছাকাছি সাপোর্ট লেভেল টাচ করে যখন রেসিসটেনস (Neckline) লেভেল ক্রস করবে তখন এই প্যাটার্নে বায় অর্ডার করে বিশাল একটা প্রফিট নিতে পারেন।



হেড অ্যান্ড শোল্ডার টপ (Top Head & Shoulder):

এটি একটি আপট্রেন্ড রিভার্সেল প্যাটার্ন। এই প্যাটার্ন নামটি ভালোভাবে পড়লে এর ধরন সম্পর্কে ৫০% বেশি ধারণা চলে আসবে। কথা না বাড়িয়ে মূল পয়েন্টে যাই। এই প্যাটার্নটি
২টি শোল্ডার(shoulder),        - Second high peak
১টি হেড(Head)                   - First high peak
নেক লাইন(Support)  – Third high balance peak. ধারা গঠিত।


অর্থাৎ আপট্রেন্ড মার্কেটে যখন একটি সরবচ্চ হাই পিক এর মাধ্যমে দুপাশে দুটি মিডিয়াম হাই পিক এর সর্বনিম্ন পয়েন্টে (সাপোর্ট) নেক লাইন তৈরি করে তখন এই আকৃতিকে হেড অ্যান্ড শোল্ডার প্যাটার্ন বলে। হিউম্যান বডির সাথে চিন্তা করে আরো সহজ করে নিতে পারেন অর্থাৎ মাথা হচ্ছে হাই পিক এবং দুটি কাঁধ হল মিডিয়াম বা সেকেন্ড হাই পিক এবং দুই কাঁধের সর্বনিম্ন পয়েন্ট হল নেক লাইন(সাপোর্ট)। আশা করছি প্যাটার্নটি আয়ত্ত করতে পেরেছেন। চার্ট প্যাটার্নের এই প্যাটার্নটিকে অনেক নির্ভরযোগ্য একটি প্যাটার্ন হিসেবে ট্রেডাররা ট্রেড করে থাকে কারন এই প্যাটার্নটির Accuracy অনেক ভালো।

কিভাবে ট্রেড করবেনঃ অন্য সব প্যাটার্নের মত নেক লাইন ব্রেক করলে শর্ট অর্ডার অর্থাৎ টপ রিভার্সেল অর্ডার করবেন।

হেড অ্যান্ড শোল্ডার বটম রিভার্সেল (Bottom Head & Shoulder):

হেড অ্যান্ড শোল্ডার এর ঠিক বিপরীত এটি একটি বটম রিভার্সেল প্যাটার্ন। ডাউনট্রেন্ড মার্কেটে একটি হায়েস্ট লাওয়ার (Head) এর দুপাশে দুটি  সেকেন্ড হায়েস্ট লাওয়ার (Shoulders) এর সরবচ্চ পয়েন্টে রেসিসটেনস বা নেক লাইন তৈরি করে তখন থাকে বটম হেড অ্যান্ড শোল্ডার বলে।
চিত্রে খেয়াল করুন...


 
কিভাবে ট্রেড করবেনঃ নেক লাইন ব্রেক করলে লং অর্ডার অর্থাৎ বটম রিভার্সেল অর্ডার করবেন।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার - ফরেক্স ( টিউটোরিয়াল ) - ৯

চার্ট প্যাটার্ন

কিঃ চার্ট প্যাটার্ন হল ভিবিন্ন ধরণের চার্ট দেখে তার ভিবিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে ট্রেড করা। আরো সহজ করে বললে বলা যেতে পারে, আপনি বার, লাইন বা ক্যান্ডেলস্টিক যে চার্টই ব্যাবহার করেন না কেনো মার্কেটের ট্রেন্ড বা প্রাইস মুভমেন্ট এর উপর ভিত্তি করে মার্কেট চার্ট অনেক ধরণের আকৃতিতে (Shape) ধারন করে এবং প্রতিটি সেইপ এর একটি সম্ভব্য অর্থ থাকে। ফরেক্স মার্কেটে চার্ট এনলিস্টরা এই রকম কিছু স্ট্রেটিজি আবিস্কার করেছেন যাতে করে একজন ট্রেডার চার্টের আকৃতি বা ভিবিন্ন চার্ট ট্রান্সফরমেশন সেইপ দেখে পরবর্তী মার্কেট মুভমেন্ট বা মার্কেট ট্রেন্ড বুঝে ট্রেড করতে পারে। এই পদ্ধতিকেই চার্ট প্যাটার্ন বলা হচ্ছে।
বেসিক চার্ট প্যাটার্ন ২ ধরণের
  • ১। কন্টিনিউশন চার্ট প্যাটার্নঃ
  • ২। রিভার্সেল চার্ট প্যাটার্ন:
কন্টিনিউশন চার্ট প্যাটার্নঃ  যে সকল প্যাটার্নে  প্রাইস এর ধারাবাহিক মুভমেন্ট থাকে অর্থাৎ বিপরীত না হয়ে একটি ধারাবাহিক পন্থা অবলম্বন করে সেই সব চার্ট প্যাটার্নকে কন্টিনিউশন চার্ট প্যাটার্ন বলা হয়। ভিবিন্ন রকমের কন্টিনিউশন চার্ট প্যাটার্ন আছে, কিছু কমন কন্টিনিউশন চার্ট প্যাটার্ন হলঃ

১) অ্যাসেন্ডিং ট্রাইএঙ্গেল (Ascending Triangle ):

এই প্রকার প্যাটার্ন সাদৃশ্য হয় যখন একটি রেসিসটেনস লেভেলে ত্রিকোণিক বিপরীত দুই বা ততোধিক Higher Lows এর মাধ্যমে একীভূত হয়, এটি টেকনিক্যাল এনালাইসিসের একটি বুলিশ চার্ট প্যাটার্ন। অ্যাসেন্ডিং ট্রাইএঙ্গেল প্যাটার্ন নির্ধারণে ট্রেন্ডলাইনে আঁকতে হয় মিনিমাম দুটি সমান হায়ার প্রাইস লেভেল এর আনভুমিক (হরাইযেন্টাল) লাইনে এবং  বিপরীত দুয় বা ততোধিক লাওয়ার প্রাইস লেভেল এর মাধ্যমে যা দেখতে একটি ত্রিকোনিক সেইপ এর মত হবে। নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করুন...


কিভাবে ট্রেড করবেনঃ
অ্যাসেন্ডিং ট্রাইএঙ্গেল প্যাটার্নে ট্রেড করতে আপার হরাইজেন্টাল ট্রেন্ড লাইনের ১০ পিপস উপরে বায় অর্ডার করতে পারেন।

২) ডিসেন্ডিং ট্রাইএঙ্গেল (Descending Triangle ):

অ্যাসেন্ডিং ট্রাইএঙ্গেল এর বিপরীত অর্থাৎ একটি সাপোর্ট লেভেলে ত্রিকোণিক বিপরীত দুই বা ততোধিক Lower Highs এর মাধ্যমে একীভূত হয়। এটি একটি বেয়ারিশ চার্ট প্যাটার্ন। এই প্যাটার্ন লাইন আঁকতে হয় মিনিমাম দুটি সমান লাওয়ার প্রাইস লেভেল এর আনভুমিক (হরাইজেন্টাল) লাইনে এবং  বিপরীত দুই বা ততোধিক হায়ার প্রাইস লেভেল এর মাধ্যমে যা দেখতে একটি ত্রিকোনিক সেইপ এর মত হবে।
নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করুন...




কিভাবে ট্রেড করবেনঃ
ডিসেন্ডিং ট্রাইএঙ্গেল প্যাটার্নে ট্রেড করতে লাওয়ার হরাইজেন্টাল ট্রেন্ড লাইনের ১০ পিপস নিচে সেল অর্ডার করতে পারেন।

৩) সাইমেট্ট্রিকেল ট্রাইএঙ্গেল (Symmetrical Triangle)

এই প্যাটার্নটি দেখা যায় দুটি সমকেন্দ্রিক পয়েন্টে অর্থাৎ যেখানে সাপোর্ট লাইন Ascending( ঊর্ধ্বমুখী) এবং রেসিসটেনস লাইন Descending(নিম্নমুখী) বা হরাইজেন্টাল না হয়ে একটি ত্রিকোনিক আকৃতি ধারন করে। এই প্যাটার্নটি খুবই সহজে নির্ধারণ করা যায়। এটি বুলিশ কিংবা বেয়ারিশ যেকোন প্যাটার্ন হতে পারে। অর্থাৎ এই ধরণের প্যাটার্নে বুলিশ কিংবা বেয়ারিশ যেকোন ব্রেক আউট হতে পারে। এটি খুব কমন এবং রিলাইয়াবল একটি প্যাটার্ন।
বুলিশ সাইমেট্ট্রিকেল ট্রাইএঙ্গেল





বেয়ারিশ সাইমেট্ট্রিকেল ট্রাইএঙ্গেল





কিভাবে ট্রেড করবেনঃ
এই ধরণের প্যাটার্নে স্পট ট্রেড ঝুঁকিপূর্ণ । যেহেতু মার্কেট একটি ইন্ডিসিশন অবস্থায় আছে তাই আপনি কোন স্পট ট্রেডের অর্ডার দিতে পারবেন না। এই অবস্থায় পেন্ডিং ট্রেড এর মাধ্যমে আপনি ব্রেক আউট সুযোগটি নিতে পারেন। অর্থাৎ, আপার লাইন এর কয়েক পিপস উপরে বায় স্টপ অর্ডার দিতে পারেন এবং লওয়ার লাইন এর কয়েক পিপস নিচে সেল স্টপ অর্ডার দিতে পারেন।

৪) বুলিশ পেনান্ট প্যাটার্ন (Bullish Pennant )

এই প্রকার প্যাটার্ন আপট্রেন্ড মার্কেটে দেখা যায়। ভারটিকেলি আপ রাইজ মার্কেটে এটি প্রাইস আরো বাড়ার ইঙ্গিত প্রদান করে। এটি এর নামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অর্থাৎ দেখতে একটি ফ্ল্যাগ(পতাকার) মতো সেইপ হবে। এটি বুলিশ মার্কেটের খুব শক্তিশালী একটি প্যাটার্ন যা একটি লম্বা সিঁড়ির (Step) পর আরেকটি লম্বা সিঁড়ির সূচনা প্রকাশ করে। ভারটিকেলি আপ রাইজ মার্কেটে এই প্যাটার্নটি সাইমেট্রিকেল প্যাটার্ন এর মত আঁকতে পারেন। যা অনেক শক্তিশালী একটি প্যাটার্ন।
নিচের ছবিটি ভালোভাবে লক্ষ্য করুন...।



পতাকার মত একটি লম্বা স্টেন্ডে(বায় কেন্ডেল) এর পরে মার্কেট আরো বায়ে যাওয়ার একটি স্ট্রং ট্রেন্ড।

৫) বেয়ারিশ পেনান্ট প্যাটার্ন (Bearish Pennant )

এটি একটি  বেয়ারিশ কন্টিনিউশন প্যাটার্ন যা বর্তমান ডাউনট্রেন্ড মার্কেটকে আরো ডাউনে যাওয়ার ইঙ্গিত করে বা প্রাইস আরো কমবে। নামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অর্থাৎ একটি ফ্ল্যাগ(পতাকার) মতো সেইপ হয় এই প্যাটার্নটির। এটি ভারটিকেল ডাউনট্রেন্ড মার্কেটে একটি হরাইজেন্টাল পেনান্ট অর্থাৎ মার্কেটের একটি বড় ডাউনট্রেন্ড মুভমেন্টের পর আরো একটি বড় ডাউনট্রেন্ড মুভমেন্টের ইঙ্গিত প্রদানকারী এই প্যাটার্নকে বেয়ারিশ পানান্ট প্যাটার্ন বলা হয়। ভারটিকেল ডাউনট্রেন্ড মার্কেটে এই প্যাটার্নটি সাইমেট্রিকেল প্যাটার্ন এর মত আঁকতে পারেন।
নিচের ছবিটি ভালোভাবে লক্ষ্য করুন...।

আরেকটি কথা বুলিশ বা বেয়ারিশ পেনান্ট প্যাটার্নগুলো এভাবে দীর্ঘ একটা ট্রেন্ড এর পরে পেনান্ট সেইপ এর উপস্থিতিতে আরো দীর্ঘ একটা ট্রেন্ডে যাওয়ার মূল বিষয় হল, মার্কেট যখন কোন একটি ট্রেন্ডে কিছুদুর গিয়ে স্টপ হয়, প্রকৃতপক্ষে এটা আসলে স্টপ নয় এটা হল বিরতি(Pause) যার কিছুক্ষণ পরেই আবার রিসিউম করে। তাই এই প্যাটার্নগুলোতে কন্টিনিউশন অর্ডার করা হয়।
কিভাবে ট্রেড করবেনঃ  বুলিশ বা বেয়ারিশ যে প্যাটার্নে মার্কেটে ঢুকতে চান একটি এনালাইসিসের প্রয়োজন আছে। বুলিশ পেনান্টটে যদি মার্কেটে ঢুকতে হলে পেনান্ট ড্র লাইনের কয়েক পিপস উপরে বায় অর্ডার করবেন এবং বেয়ারিশ পেনান্টটে মার্কেটে ঢুকতে হলে পেনান্ট ড্র লাইনের কয়েক পিপস নিচে সেল অর্ডার করবেন। একটি কথা না বললেই নয় যে, ট্রেন্ড প্যাটার্ন গুলো অনেক ইফেক্টিভ কাজ দেয় তবে শর্ত হল প্যাটার্ন গুলোর বিহেবিয়ার বুঝে আগে ভালোভাবে প্র্যাকটিস করে একটি পার্সোনাল অভিজ্ঞতা নিয়ে নিবেন তারপর লাইভ মার্কেটে ব্যাবহার করবেন।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার - ফরেক্স ( টিউটোরিয়াল ) - ৮

ট্রেন্ড লাইনঃ

ট্রেন্ড সনাক্তকরণ, ট্রেন্ড নিশ্চিত হওয়া এবং ট্রেন্ড ইন্টেনসিটি পরিমাপের জন্য ট্রেন্ড লাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি টুলস। মেটেট্রেডারের টেন্ডলাইন টুল দিয়ে ট্রেন্ডলাইন আঁকতে হয়। সঠিক ট্রেন্ডলাইন ড্র’র মাধ্যমে সঠিক এবং নিখুঁত ট্রেড করতে পারা যায়। ফরেক্স মার্কেটের যেকোন চার্টে আপনি ৩ ধরণের ট্রেন্ড লাইন পাবেন এবং আঁকতে পারবেন।

১। আপট্রেন্ড (বুলিশ) লাইন আঁকার নিয়মঃ




ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডের দুই বা তার অধিক লো পয়েন্ট গুলোকে একটি লাইন এর মাধ্যমে কানেক্ট করতে হয়। উপরের চিত্রে লক্ষ্য করুন এক দিনের চার্টে ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডে অনেকগুলো Higher Lows কে একটি লাইন এর মাধ্যমে কানেক্ট করা হয়েছে।

২। ডাউনট্রেন্ড (বেয়ারিশ) লাইন আঁকার নিয়মঃ

নিম্নমুখী ট্রেন্ডের দুই বা তার অধিক হাই পয়েন্ট গুলোকে একটি লাইন এর মাধ্যমে কানেক্ট করতে হয়। নিচের চিত্রে লক্ষ্য করুন এক দিনের চার্টে নিম্নমুখী ট্রেন্ডে সবগুলো Lower Highs কে একটি লাইন এর মাধ্যমে কানেক্ট করা হয়েছে।



৩। সাইডওয়ে ট্রেন্ড (সমান্তরাল)

হল মার্কেটের তেমন কোন মুভমেন্ট ছাড়া সমান্তরাল একটি গতি। ছোট ছোট ঢেউ এর মত একটি গড় সমান্তরাল মিনি ট্রেন্ড। অনেক ট্রেডাররা সাইডওয়ে ট্রেন্ড এর জন্য অপেক্ষা করে মার্কেটে প্রবেশ করার জন্য, কারন সাইডওয়ে ট্রেন্ড হচ্ছে পরবর্তী যে কোন লং ট্রেন্ডের টার্ন পয়েন্ট। সাইডওয়ে ট্রেন্ডে সাধারণত ট্রেডিং করে ভালো সুফল পাওয়া যায় না।



ট্রেন্ড লাইনে কিভাবে ট্রেড করবেনঃ

“The trend is your friend” এই পুরতন কিন্তু অত্যন্ত জরুরী একটি কথা। অর্থাৎ ট্রেন্ড যে দিকের ফলোয়ার আপনি ও সেই দিক ফলো করবেন। ট্রেন্ড লাইন আলাদা কোন টেকনিক নয় বরং আপনি যে সব স্ট্রেটিজি জানেন সেগুলো কাযত করবেন সঠিক একটি ট্রেন্ড লাইন আঁকার মাধ্যমে। সাপোর্ট এবং রেসিসটেনস এ আপট্রেন্ড , ডাউনট্রেন্ড এবং রেঞ্জবাউন্ড সহ সকল অর্ডারকে নিশ্চিত করার জন্য ট্রেন্ডলাইন ব্যাবহার খুবই দরকারি।
ট্রেন্ড লাইন আঁকার পর যখন দেখবেন ৩-৪ টি করে টপ-বটম বাউনসিং করে ফেলেছে তখন অপেক্ষায় থাকবেন ট্রেড রিভার্সেল এর জন্য। অর্থাৎ ট্রেন্ড যখন তার ক্রমাগত গতি থেকে বের হয়ে যায় বা ক্রমাগত গতি পরিবর্তন করে আরেকটি নতুন ট্রেন্ড শুরু করে। আপট্রেন্ড লাইন ব্রেকে সেল করতে পারেন এবং ডাউন ট্রেন্ড লাইন ব্রেকে বায় করতে পারেন। তবে অর্ডার এর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন ট্রেন্ড লাইন ব্রেক করেছে কিনা।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার - ফরেক্স ( টিউটোরিয়াল ) - ৭

টেকনিক্যাল এনালাইসিসঃ

হল বিগত দিনের মার্কেট চার্ট পড়ে পরবর্তী মার্কেট মুভমেন্ট কি হতে পারে তা বের করার বা বোঝার একটি পদ্ধতি। ইহা হল বিভিন্ন চার্ট , ট্রেডিং টুল এবং মার্কেট তথ্যর উপর ভিত্তি করে  ভবিষ্যৎ মার্কেট মুভমেন্ট কি হবে তার একটি সহজ সার্বজনীন ট্রেডিং পদ্ধতি। এতে করে ট্রেডাররা পূর্বের মার্কেট ডাটা এনালাইসিস করে পরবর্তী ট্রেড করতে পারে। বিশ্বের সব ট্রেডারদের কাছে এই পদ্ধতিটি খুবই জনপ্রিয়। কেউ কেউ এই পদ্ধতিকে ট্রেড উইথ হিস্টরিকেল ডাটা বলে থাকে। বিষয়টা আসলে আমাদের পরীক্ষায় প্রস্তুতি সরূপ, বিগত বছরের প্রশ্ন অনুসারে পরবর্তী বছরের পরীক্ষার জন্য রেডি হওয়া বা পরীক্ষা দেওয়াটা যেমন ভালো ফলাফলের একটি সহজ পদ্ধতি, টেকনিক্যাল এনালাইসিস ও  ট্রেডারদের কাছে এমন একটি ট্রেডিং হাতিয়ার। আশা করি এতক্ষণের আলোচনায় টেকনিক্যাল এনালাইসিস ধারনাটা পেয়ে গেছেন।
টেকনিক্যাল এনালাইসিস ৩ টি বিশেষ নীতির মাধ্যমে কাজ করে থাকে।
  • ১। মার্কেট অ্যাকশনঃ
  • ২। ট্রেন্ড এ প্রাইস মুভমেন্ট
  • ৩। ইতিহাস পুনরাবৃত্তি

চার্টঃ

টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর ৩ টি জনপ্রিয় চার্ট হলঃ
  • ১। লাইন চার্ট
  • ২। বার চার্ট
  • ৩। ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট
তারমধ্যে ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট বেশির ভাগ ট্রেডারদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আমরা ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট নিয়েই আলোচনা করবো। জাপানিস রাইস ট্রেডার Homma’r  কাছ থেকে ক্যান্ডেলস্টিক ধারণাটি ফরেক্স মার্কেটে আসে। যা লম্বালম্বি ভাবে উভয় দিকে একটি রেখা (Stick) সহ  ব্লক এর মাধ্যমে অঙ্কিত একটা ক্যান্ডেল এর মত দেখতে তাই এর নাম করন ক্যান্ডেলস্টিক। এই চার্ট টাইপ এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি দিনের বা ভিন্ন ভিন্ন সময়ের মার্কেট প্রাইস তথা ওপেন, ক্লোজ, হাই এবং লো ইত্যাদি দেখা যায়। এই ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট অনেক রুপের মাধ্যমে অনেক ধরণের মার্কেট মভমেন্ট ডিরেকশন দেয়।

ট্রেন্ডঃ

হল মার্কেটের একটি স্বস্বাভাবিক গতিবিধি (মুভমেন্ট), একটি মার্কেট ট্রেন্ড কখনো স্ট্রেইট (সোজাসুজি) গতিতে চলে না। মার্কেট সব সময় প্রগতিশীল অর্থাৎ কখনো ঊর্ধ্বমুখী বা কখনো নিম্নমুখী এবং মাঝে মাঝে সমান্তরাল। যদি প্রত্যেক ক্রমানুযায়ী আপ মুভমেন্ট আগের নিম্নমুখী ট্রেন্ডের আরো নিচের দিকে মোড় নিতে শুরু করে তখন মার্কেট এর নিম্নক্রম প্রবনতা বলে ধরা যায়। আবার প্রত্যেক ক্রমানুযায়ী ডাউন মুভমেন্ট আগের ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডের আরো উপরের দিকে মোড় নিতে শুরু করে তখন মার্কেট এর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বলে ধরে নেওয়া হয়। এটাই আসলে মার্কেটের প্রকৃত চিত্র।

সাপোর্ট এন্ড রেসিসটেন্সঃ

টেকনিকেল এনালাইসিস এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মৌলিক ধারণা হল সাপোর্ট এবং রেসিসটেনস। অর্থনীতির ভাষায় মার্কেটের চাহিদা এবং যোগানের দুটি মিলিত পয়েন্ট হচ্ছে এই  সাপোর্ট এবং রেসিসটেনস । ফরেক্স মার্কেট যেহেতু অর্থনির্ভর একটি মার্কেট তাই এই ধারণাটি এখানে বেশ মূল্যবান। সঠিক সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স নির্ধারণ এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন কখন ট্রেডে ডুকবেন এবং কখন ট্রেড থেকে বের হবেন এবং কি পরিমান লাভ করবেন কিংবা লস হলেও তা কি পরিমান। অর্থাৎ ট্রেন্ড এনালাইসিস এর মাধ্যমে সাপোর্ট এবং রেসিসটেনস লেভেল নির্ধারণের মাধ্যমে সঠিক সময়ে ট্রেড ওপেন এবং ট্রেড ক্লোজ করতে পারবেন।

সাপোর্ট এন্ড রেসিসটেন্স লেভেল নির্ধারণঃ



সাপোর্ট এন্ড রেসিসটেন্স সবসময় পরিবর্তনশীল কতগুলো লেভেল, যা কখনো একটি লেভেলে স্থির থাকে না। উপরের চিত্রে লক্ষ্য করুন, আপট্রেন্ড মার্কেটের  প্রত্যেকটি সর্বোচ্চ চুড়া হচ্ছে এক একটি রেসিসটেনস লেভেল এবং ডাউন ট্রেন্ডের সর্বনিম্ন প্রত্যেকটি পয়েন্টই হচ্ছে এক একটি  সাপোর্ট লেভেল।
আপ মার্কেট ট্রেন্ডে পূর্ববর্তী রেসিসটেনস ব্রেক করলে পরবর্তী সাপোর্ট লেভেল রেসিসটেনস হিসেবে কাজ করে আবার ডাউন ট্রেন্ড মার্কেটে পূর্ববর্তী সাপোর্ট ব্রেক করলে পরবর্তী রেসিসটেনস লেভেল সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে।
সাপোর্ট যখন ব্রেক করে প্রাইস তখন আরো কমতে থাকে এই অবস্থায় সেল ট্রেড করে প্রফিট করা যায় আবার রেসিসটেনস যখন ব্রেক করে পাইস তখন আরো  বাড়তে থাকে ওই অবস্থায় বায় ট্রেড করে প্রফিট করা যায়।
আর সাপোর্ট যখন ব্রেক না করে টাচ করে তখন বায় ট্রেড করে প্রফিট করা যায় এবং রেসিসটেনস যখন ব্রেক না করে টাচ করে তখন সেল ট্রেড করা যায়। এই ধরনের ট্রেডকে সুয়িং ট্রেড বলা হয়। অর্থাৎ সুযোগ সন্ধানী ট্রেড ।

রেঞ্জবাউন্ড ট্রেডিং:

যখন একটি নির্দিষ্ট বাউন্ডারি বা এরিয়ার ভেতর মার্কেট মভমেন্ট তথা ট্রেডিং পরিচালিত হয় তাকে রেঞ্জবাউন্ড টেডিং বলে। মূলত ৮০% সময়ে এ সিস্টেমে মার্কেট পরিচালিত হতে দেখা যায়। কারন সবসময় মার্কেট ভলাটিলিটি হাই থাকে না। রেঞ্জবাউন্ড ট্রেডিং অনেক ট্রেডারদের কাছে খুব্ই জনপ্রিয় একটি মেথড। এই পদ্ধতিতে ট্রেডারকে অবশ্যই ট্রেডিং রেঞ্জ এরিয়া অর্থাৎ দুটি এক্সট্রিম ট্রেডিং লেভেল(সাপোর্ট অ্যান্ড রেসিসটেনস) বুঝতে হবে।





উপরের চিত্রটি খেয়াল করুন মার্কেট একটি নির্দিষ্ট এরিয়া অর্থাৎ একটি স্ট্রং সাপোর্ট অ্যান্ড রেসিসটেনস এর মধ্যে বাউনসিং করছে। সাধারণত মার্কেট একটি হাই ভলাটিলিটি শেষে এই ধরণের রেঞ্জে মুভ করতে থাকে। অথবা মার্কেটে যদি কোন স্ট্রং প্রেসার না থাকে তখনও এই ধরণের রেঞ্জিং দেখা যায়।
মার্কেট মুভমেন্ট যখন কোন সাপোর্ট বা রেসিসটেনস লেভেল ব্রেক করতে পারে না তখন এই পদ্ধতিতে আপনি বায় অর্ডার করতে পারেন যখন প্রাইস সাপোর্ট লেভেল এর কাছাকাছি এবং সেল করতে পারেন যখন প্রাইস রেসিসটেনস লেভেল এর কাছাকাছি। সাপোর্ট লেভেল এর নিচে এবং রেসিসটেনস লেভেল এর উপরে ১৫-২০ পিপস স্টপ লস সেট করবেন এবং প্রফিট নিতে পারেন ৩০ পিপস এর মত। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় ৩-৪টি সাপোর্ট এবং রেসিসটেনস বাউনসিং এর পরে তা ব্রেক করে তাই সতর্ক থাকবেন।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার - ফরেক্স ( টিউটোরিয়াল ) - ৬

ইকোনমিক ক্যালেন্ডারঃ

হল বিভিন্ন ঘটনা নির্ণয়ে মার্কেট মুভিং এর সম্ভব্য প্রতিফলন বা ফলাফল তথ্য । এই ক্যালেন্ডারে সময় অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোন ইভেন্টের ইফেক্ট কি হয় এবং হতে পারে তার একটি রিপোর্ট প্রদান করে। যা দেখে ট্রেডাররা বুঝতে পারে যে পরবর্তী মার্কেট ট্রেন্ড কি হতে পারে এবং সে অনুযায়ী তারা মার্কেটে প্রবেশ করে। এই ক্যালেন্ডারে সময় সময়ের বিশ্বব্যাপী ভিবিন্ন ইভেন্টের ফোরকাস্ট করা হয়।
ইকোনমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করেন অভিজ্ঞ ইকোনমিস্টসরা, পূর্ববর্তী মাসের ডাটা নিয়ে ফিউচার মার্কেট মুভমেন্ট এর একটি ফোরকাস্ট প্রদান করা হয় এই ডাটায়।

ইকোনমিক ক্যালেন্ডারের মূল পয়েন্টগুলো হলঃ



Date — Time — Currency — Data Released — Actual — Forecast — Previous

কিভাবে ইকোনমিক ক্যালেন্ডার রীড করবেন ?

আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনি যে কারেন্সি নিয়ে ট্রেড শুরু করতে যাচ্ছেন সে সময়ে  ঐ কারেন্সি’র কোন হাই ইম্পেক্ট আছে কিনা, একচুয়াল নিউজ রিলিসের সময় মার্কেট অনেক বেশি ভলাটাইল থাকে। আর মার্কেট ভলাটিলিটি স্ট্রেনথ নির্ভর করে রিলিস নিউজটি কতটা চমকপ্রদ তার উপর। ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ নিউজটি চমকপ্রদ থাকে(Factor of Surprised)যেখানে ট্রেডাররা একচুয়াল রিলিস ডাটার সাথে ফোরকাস্ট কমপেয়ার করে। মিডিয়াম ইমপেক্ট ডাটা একটি হাই ইম্পেক্টে যাওয়া পর্যন্ত বিবেচনায় রাখতে পারেন। এবং বেশির ভাগ সময়ে লো ইম্পেক্ট ডাটা ফরেক্স মার্কেটে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করে না।
  • Previous: ফরেক্স ক্যালেন্ডারের প্রিভিয়াস কলাম লাস্ট রিলিস ডাটা প্রকাশ করে।
  • Forecast: ডাটা নির্দেশ করে ইকোনমিস্টসদের মার্কেট প্রিডিকশনে আজকের মার্কেট মুভমেন্ট বা মার্কেট ইম্পকেট রেইট কেমন।
  • Actual: এবং সর্বশেষ একচুয়াল ডাটা আপডেট করা হয়। নিউজ রিলিসের সাথে সাথে মুহূর্তের মধ্যে ফোরকাস্ট ভেলুর সাথে কম্পেয়ার করা হয়। তারপর উক্ত ডাটার পজেটিভনেস এবং নেগেটিভনেস বিচার করে কোন কারেন্সিকে কতটুকু ইম্পেক্ট করছে তা নিশিত করা হয়। এবং ফাইনালি ট্রেডাররা সেই ইকোনমিক ডাটা নিয়ে ট্রেডে প্রবেশ করে যার যার এনালাইসিস এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে।
আসুন এইবার একটি ইকোনমিক ক্যালেন্ডার দেখি কিভাবে আপনি এই ক্যালেন্ডার এর মাধ্যমে মার্কেট পাওয়ার বুঝবেন এবং এতক্ষণের আলোচনার বাস্তব প্রমান দেখবেন।


উদহারন হিসেবে আমি  http://www.forexfactory.com ব্যাবহার করছি কারন এই সাইটটিতে ডাটা প্রেজেন্টেশন খুব সুন্দর ভাবে করা হয়েছে সাথে অনন্যা সুবিধাও সাইটটিকে করেছে আরো ইফেক্টিভ।
সাইটে প্রবেশ করে ক্যালেন্ডার ট্যাব ক্লিক করলে নিচের চিত্রটি দেখবেন।









ডেইট এবং টাইম অনুসারে ঐ দিনের কারেন্সি ইমপ্যাক্ট টাইটেলড করা হয়েছে ডিটেইলস, একচুয়াল, ফোরকাস্ট, প্রিভিয়াস এবং গ্রাফ আর মাধ্যমে। তার আগে আপনাকে আপনার কম্পিউটারের ঘড়ির সাথে এই ওয়েব সাইটের ঘড়ির টাইমটা সেট করে নিতে হবে যাতে করে আপনি যে রিজিওন এ আছেন সেই রিজিওন আর টাইম অনুসারে নিউজগুলো পান, সে জন্য উপরের অংশে টাইমে সিলেক্ট করুন।





এরপর , বাংলাদেশের সাথে সময় মেলানোর জন্য Almaty, Dhaka, Colombo






টাইমজোন থেকে বাংলাদেশ টাইমজোন অর্থাৎ GMT+6 সিলেক্ট করুন এবং DST অফ করে Save Changes এ ক্লিক করে আবার ক্যালেন্ডারে চলে আসুন।
আপনি যখন ক্যালেন্ডারে প্রবেশ করবেন তখনকার সময়ের বা তার পরবর্তী যে কারেন্সিতে কোন ইমপ্যাক্ট থাকবে তা Impact  কলামে ৩টি ভিন্ন কালার আর মাধ্যমে প্রকাশ করবে। যেমনঃ
RED Color = High Impact
Light Orange Color = Medium Impact
Yellow Color = Low Impact


অর্থাৎ তিনটি ভিন্ন ভিন্ন কালার তিন লেভেলের ইমপ্যাক্ট এর আশা করছে ঐ সময়ে মার্কেট নিউজ প্রকাশের উপর। তাহলে আপনি যে কারেন্সি নিয়ে ট্রেড করার আশা করছেন তার ইমপ্যাক্ট কি তার ডিটেইলস দেখে নিয়ে ট্রেড করতে পারেন। কারেন্সি ইমপ্যাক্ট ডিটেইলস এর জন্য ঐ কারেন্সির Open Details এ ক্লিক করুন। নিচের চিত্রের মত আসবে...






এখানে ঐ কারেন্সির ভিবিন্ন ফ্লো ডিটেইলস ইনফরমেশন দেখাচ্ছে এবং খেয়াল করুন, Usual Effect কলামে একটি মেইজারমেন্ট দেখাচ্ছে, Actual >  forcast = Good for Currency; এর মানে হল ফোরকাস্ট ভেলুর চেয়ে যদি Actual বেশি হয় তাহলে তা ঐ কারেন্সির জন্য ভালো।
এইবার নিচের চিত্রটি খেয়াল করুন।






তাহলে USD কারেন্সিতে যখন নিউজটি প্রকাশ হয় তখন Forecast করা হয়েছিল -44.28 কিন্তু পরে দেখা গেল তা Actual এসেছে -42.08 তার মানে এই নিউজে USD কারেন্সির জন্য যে রুপ আশা করা হয়েছিল তা হয় নি। কারন Forecast এর চেয়ে Actual খারাপ এসেছে। আর Previous হিসেবে যে ভেলুটি দেখতে পাচ্ছেন তা হল ঐ নিউজের বিগত দিনের Actual ভেলু।

ফরেক্স ব্রোকার সহ ফরেক্স বিষয়ক ভিবিন্ন ওয়েবসাইটে নানামুখী ফরেক্স ইনফরমেশন পাওয়া যায় সেইজন্য প্রয়োজন নিয়মিত ভাবে ঐ সব সাইট ভিজিট করা এবং বিষয়গুলো ভালোভাবে পড়া। যাহোক এখন তেমন একটি সাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি যেখানে ফান্ডামেন্টাল এবং টেকনিক্যাল বেসিস এনালাইসিসে Daily ফোরকাস্ট সহ Weekly ফোরকাস্ট এর মাধ্যমে আপনাকে সব সময় ফরেক্স মার্কেট এর সাথে আপডেট রাখবে।

http://www.forexcrunch.com  এ গিয়ে Daily মেন্যু থেকে EUR/USD Daily ক্লিক করুন।


এখানে একনজরে প্রথমে একটি বেসিক ব্রিফিং সহ, আলাদা ভাবে টেকনিক্যাল এবং ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস রিপোর্ট পাবেন। অর্থাৎ টেকনিক্যাল টার্মে ঐ কারেন্সির পরবর্তী মুভমেন্ট লেভেল গুলোর আগাম গতিবিধি নির্ধারণ করে তার ভেলু গুলো দেওয়া হয়েছে চার্ট এর মাধ্যমে।
ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসে টাইম অনুসারে নিউজ Cause সহ এর সম্ভব্য ইমপ্যাক্ট ভেলু ফোরকাস্ট করা হয়েছে।
এবং সবশেষে ঐ কারেন্সি সম্পর্কে পরবর্তী ভিবিন্ন নিউজ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা ঐ কারেন্সির পরবর্তী মার্কেট মুভমেন্ট সম্পর্কে আপনাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিবে।
এই ধরণের আরো অনেক সাইট রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। মূলত কথা হচ্ছে এ রকম কয়েকটি সাইট এর সাথে রেগুলার টাচ রেখে ভিবিন্ন কারেন্সির মুভমেন্ট সম্পর্কে সজাগ থাকলে সফল ভাবে ট্রেড করতে আপনার এর কিছু লাগবে না।
বি.দ্রঃ ইকোনমিক নিউজ ইমপেক্ট > মার্কেট ভলাটিলিটি বৃদ্ধি > ২-৩ মিনিটের মধ্যে হাইস্ট ভলাটিলিটি > এবং পরবর্তী ৫-১০ মিনিটের মধ্যে আস্তে আস্তে কারেকশন